জাল কার্যাদেশ ও অবৈধ ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের মাধ্যমে ১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এবি ব্যাংকের সাবেক দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মসিউর রহমান চৌধুরী ও শামীম আহমেদ চৌধুরীসহ ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।
ওই মামলায় ১৭ আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানিতে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদেশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্টে জামিন আবেদনকারী দুই আসামি হলেন ব্যাংকটির সাবেক এভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার আবদুর রহিম ও ভিপি শহিদুল ইসলাম। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে আইনজীবী গোলাম আব্বাস চৌধুরী ও দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। রষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক।
পরে খুরশীদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ১৭ আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা ওই দুই আসামির জামিন আবেদন শুনানিতে আদালত অপর ১৫ আসামির বিষয়ে জানতে চান। তাঁরা পলাতক বলে আদালতকে জানানো হয়। শুনানি নিয়ে আদালত দুজনের জামিন বিষয়ে রুলসহ আদেশ দেন। আদেশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাঁরা যেন বিদেশে পালাতে না পারেন, সে জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে এবি ব্যাংকের সাবেক দুই এমডিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয় এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক মো. এরশাদ আলীকে। মামলার অপর ১২ আসামি হলেন সাবেক ইভিপি ও শাখা ম্যানেজার এ বি এম আবদুস সাত্তার, এসভিপি ও সাবেক রিলেশনশিপ ম্যানেজার আনিসুর রহমান, এভিপি মো. রুহুল আমিন, ইভিপি এবং হেড অব সিআরএম ওয়াসিকা আফরোজী, ভিপি এবং সিএমআরের সদস্য মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, সাবেক এসইভিপি এবং হেড অব সিআরএম সালমা আক্তার, এভিপি ও সিআরএম সদস্য এমারত হোসেন ফকির, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার তৌহিদুল ইসলাম, এসভিপি ও সিআরএমের সদস্য শামীম এ মোরশেদ, ভিপি ও সিআরএমের সদস্য খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, এভিপি ও সিআরএমের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, সাবেক ভিপি ও ক্রেডিট কমিটির সদস্য মাহফুজ-উল ইসলাম।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে একে অন্যের সহায়তায় জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে জাল কার্যাদেশ প্রস্তুত করে ৬টি জাল কার্যাদেশের বিপরীতে ১৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া মামলায় উল্লিখিত এবি ব্যাংক কাকরাইল শাখার কর্মকর্তারা প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া ৭টি অবৈধ ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আরও ১০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করে, তা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেন। সব মিলিয়ে আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
